আলোর সন্ধানী AloR Sondhani

"আশ্চর্যজনক পৃথিবীর নবগতদের জন্য আলোর সন্ধানী। যা দেবে আলোর সন্ধান।"

আলোর সন্ধানী মোখলেছুর

প্রবাসীর দেশি মিশন,
৩০ বছর ধরে জাপানে আছেন মোখলেছুর রহমান। জাপান ইউনিভার্সিটি অব ইকোনমিকসে সমাজবিজ্ঞান পড়ান। জাপানিদের নিয়ে প্রতিষ্ঠা করেছেন বাংলাদেশ টো থে ও স্নাগো খাই। সংগঠনটি বাংলাদেশে সন্ধানীর মাধ্যমে শিক্ষা, স্বনির্ভরতা ও স্বাস্থ্যসেবায় ভূমিকা রাখছে লিখেছেন নাদিম মজিদ ১৪ নভেম্বর, ২০১৫3_290165করমদী গ্রামটি অনেক বড়। দৈর্ঘ্যে ৫ মাইল। মেহেরপুর জেলার গাংনী উপজেলায় এই গ্রাম। ১৯৫৫ সালে এখানে জন্মগ্রহণ করেন মোখলেছুর রহমান। ষাটের দশকে এখানে প্রাথমিক বিদ্যালয় ও উচ্চ বিদ্যালয় ছিল একটি করে। বাড়ি থেকে বেশ দূরে মোখলেছুর হেঁটেই স্কুলে যেতেন। অনেক ছেলেমেয়ে এতটা দূরে যেতে চাইত না বলে লেখাপড়া ছেড়ে দিয়েছিল। তাই উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ার সময় বাড়ির পাশে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় গড়ে তোলে মোখলেছুর। খড়ের ঘরের বিদ্যালয়টি গড়ে তুলতে অন্য বন্ধুরাও এগিয়ে আসে। বিকেলে বন্ধুরা মিলে ক্লাস নিতেন। মোখলেছুর উচ্চ মাধ্যমিক পড়েছিলেন মেহেরপুর কলেজে। তারপর সমাজবিজ্ঞান পড়তে চলে যান রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে। অচিরেই বিদ্যালয়টি বন্ধ হয়ে যায়। কারণ শিক্ষক পাওয়া যাচ্ছিল না।

বৃত্তি নিয়ে জাপানে

স্নাতকোত্তর শেষ করে ১৯৮১ সালে থানা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কাজ নেন মোখলেছুর। তিন বছর চাকরি করেন। ১৯৮৪ সালে পান জাপানের মনবোশো বৃত্তি। জাপানের কিউশু বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ‘সোসিওলাইজেশন প্রসেস অব বিগিনিং টিচার’ বিষয়ে ১৯৯০ সালে ডক্টরেট করেন। একই বছরের এপ্রিলে জাপানের হাকাটায় সিনিয়র হাই স্কুল শিক্ষকের কাজ নেন। ২০০২ সালে জাপান ইউনিভার্সিটি অব ইকোনমিকসে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে যোগ দেন। ২০১১ সালে অধ্যাপক হিসেবে পদোন্নতি পান।

বাংলাদেশ টো থে ও স্নাগো খাই

গ্রামে কিছু একটা করার আগ্রহ তাঁর সব সময়। জাপানে গিয়েও এলাকার কথা ভোলেননি। পিএইচডি করার সময় জাপানি বন্ধুদের নিয়ে প্রতিষ্ঠা করেন বাংলাদেশ টো থে ও স্নাগো খাই নামে একটি সংগঠন। সংগঠনটিতে তিনিই ছিলেন একমাত্র বাংলাদেশি। এ সংগঠন বাংলাদেশে ‘সন্ধানী সংস্থা’ নামে একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কাজ করছে। ১৯৮৯ সালে প্রতিষ্ঠা করা হয় করমদী পূর্বপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়। ফলে দূরত্বের জন্য যারা স্কুলে যাচ্ছিল না, তারা এবার সুযোগ পেল। শিক্ষকের বেতনসহ স্কুলের যাবতীয় খরচ বহন করে থাকে টো থে।

সন্ধানী সংস্থার বৃত্তি ও সেলাই কার্যক্রম

মোখলেছুরের একজন স্কুল সহপাঠী পড়াশোনায় বরাবরই ভালো ছিল। কিন্তু অর্থাভাবে স্নাতক করতে পারেনি সে। মোখলেছুর সে কথা ভুলতে পারেননি। তাই অর্থাভাবে ঝরে পড়া রোধ করতে ১৯৯০ সাল থেকে এলাকায় বৃত্তি দিয়ে আসছে সন্ধানী। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও এ বৃত্তি পায়। চলতি বছরে ৬২ জন শিক্ষার্থীকে বৃত্তি দেওয়া হয়েছে। বৃত্তির পরিমাণ উচ্চবিদ্যালয় পর্যায়ে ১০০ থেকে ২০০ টাকা। কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা ৩৫০০ টাকা পর্যন্ত পেয়ে থাকে। ১৯৯১ সালে সন্ধানী সংস্থা প্রতিষ্ঠা করে সন্ধানী সেলাই ঘর। প্রতিবছর এলাকার ২০ জন মেয়েকে সেলাই প্রশিক্ষণ ও সেলাইকল প্রদান করা হয়। ১৯৯৫ সালে এখানে স্থাপন করা হয় ১৫ শয্যাবিশিষ্ট সন্ধানী হাসপাতাল।

মানসম্পন্ন শিক্ষার জন্য

মানসম্পন্ন শিক্ষার অভাবে পরীক্ষায় খারাপ করে অনেকে। অনেকে আবার বেশি বেশি গৃহশিক্ষক বা কোচিংয়ের ওপর নির্ভরশীল। এ সমস্যা দূর করতে ১৯৯৯ সালে গাংনী উপজেলা সদরে প্রতিষ্ঠা করা হয় সন্ধানী স্কুল। ২০০৬ সালে এটি কলেজে উন্নীত হয়। গত বছর এসএসসির ফলাফলে এটি যশোর শিক্ষাবোর্ডে সপ্তম স্থান অর্জন করে। এ বছর এসএসসি পরীক্ষায় ৭৬ জনের মধ্যে ৭২ জন উত্তীর্ণ হয়েছে।

২০০২ সালে নতুন মাত্রা

২০০২ সালে শিক্ষার্থীদের সন্ধানী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ুয়া অসচ্ছল পরিবারের শিক্ষার্থীদের বৃত্তি হিসেবে দেয় বাছুর। বাছুর থেকে গাভী, গাভী থেকে বাছুর ও দুধ পেয়ে উপকৃত হয় পরিবার। উৎসাহী হয় সন্তানকে পড়ালেখা শেখাতে। এ পর্যন্ত ২৫০টি বাছুর বৃত্তি হিসেবে দিয়েছে এ সংগঠন। ২০০৮ সাল থেকে গ্রামে গরিব, বিধবা ও তালাকপ্রাপ্তা নারীকে গরু দিয়ে সহযোগিতা করছে এ সংগঠন।

সন্ধানী মেডিক্যাল স্কুল

সন্ধানী হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার পর থেকে মোখলেছুর দেখে আসছেন হাসপাতালে ডাক্তার বেশি দিন থাকেন না। কোথাও ভালো চাকরি পেলে চলে যান। নার্স পাওয়া আরো কঠিন। সন্ধানী সংস্থা জরিপে দেখা যায়, মেহেরপুর জেলায় নার্স রয়েছে প্রয়োজনের তুলনায় চার ভাগের এক ভাগ। তাই গাংনী উপজেলা সদরে প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে সন্ধানী মেডিক্যাল স্কুল। এখন চলছে ভবন নির্মাণের কাজ। আগামী বছর জুলাইয়ে শুরু হবে শিক্ষা কার্যক্রম।

অর্থায়ন

সন্ধানী সংস্থার অর্থ আসে বাংলাদেশ টো থে ও স্নাগো খাই সংগঠনের মাধ্যমে। সংগঠনের প্রধান ড. মিনোসাকো একজন ডাক্তার। জাপানের বিভিন্ন স্থানে নিয়মিত লেকচার দেন। সেখানে পাওয়া অর্থ বরাদ্দ রাখেন বাংলাদেশের জন্য। ড. মোখলেছুর রহমান নিজেও বেতন থেকে একটি নির্দিষ্ট অংশ এবং বোনাসের টাকা জমা রাখেন এ সংস্থার কাজে। সদস্যরা প্রতিবছর আগস্ট-সেপ্টেম্বর মাসে ঘুরে যান বাংলাদেশ। আর ঘুরে যাওয়ার খরচটাও নিজের পকেট থেকে তাঁরা ব্যয় করেন।

– See more at: http://www.kalerkantho.com/print-edition/oboshore/2015/11/14/290165#sthash.pjOaXAaZ.dpuf

Advertisements

Leave a Reply

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

Enter your email address to follow this blog and receive notifications of new posts by email.

Join 270 other followers

%d bloggers like this: