আলোর সন্ধানী AloR Sondhani

"আশ্চর্যজনক পৃথিবীর নবগতদের জন্য আলোর সন্ধানী। যা দেবে আলোর সন্ধান।"

নিরজাকে মাথায় গুলি খেতে দেখেছি’

  • Published: 2016-02-19 13:48:52 BdST

জঙ্গিদের হাতে জিম্মি পুরো বিমান। প্রাণভয়ে তটস্থ যাত্রীরা। বিমান কর্মকর্তা নিরজা ভানোত পিছু হটেননি। যাত্রীদের অনেকেই বেঁচে গিয়েছিলেন কেবল তার তৎপরতার কারণে। আর এই বেঁচে যাওয়াদের মধ্যে একজন হলেন ডা. কিশোর মুরথি। নিজ চোখে দেখেছিলেন জঙ্গিদের গুলিতে নিরজার প্রয়াণ।

অসম সাহসী নিরজা ভানোতের জীবনীভিত্তিক চলচ্চিত্র ‘নিরজা’ মুক্তি পেয়েছে ১৯ ফেব্রুয়ারি। সিনেমাটিকে ঘিরে আবার আলোচনায় উঠে এসেছেন ২৩ বছর বয়সী সেই মেয়েটি যাকে ভারত, পাকিস্তান ও যুক্তরাষ্ট্রে সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননায় ভূষিত করা হয়েছে। ডা. মুরথি সম্প্রতি জানালেন নিরজার মৃত্যুর মুহূর্তগুলোর কথা, “আমি তাকে গুলি খেতে দেখেছি, গুলিটা করা হয়েছিল একদম তার মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে। ষষ্ঠ সারির আসনে বসে আমি তাকে দেখেছি তার শেষ মুহূর্তগুলোতে।”

টাইমস অফ ইন্ডিয়াকে দেয়া সাক্ষাৎকারে ড. মুরথি সেই দিনটির বিবরণ দেন। ১৯৮৬ সালের মুম্বাই থেকে করাচি হয়ে নিউ ইয়র্কের পথে যাত্রা করা প্যান অ্যাম সেভেনটি থ্রি বিমানটি জিম্মি করে সন্ত্রাসীরা। নিরাপত্তাকর্মীর ছদ্মবেশে চার জঙ্গি করাচি থেকে বিমানে ওঠে। হাইজ্যাকের ঘটনায় ৩৮০ জন যাত্রীর মধ্যে নিরজাসহ নিহত হয়েছিলেন মোট ২০ জন। বাকি যাত্রীদের রক্ষাকর্তা হয়ে উঠেছিলেন নিরজা, যিনি খুলে দিয়েছিলেন বিমানের জরুরি নির্গমনের পথটি। এর ফলে সন্ত্রাসীরা এলোপাতাড়ি গুলি চালানো শুরু করে এবং শেষ পর্যন্ত যাত্রীরাই হামলে পড়ে এই চার জঙ্গিদের ওপর। তার আগেই নিরজাকে চুল ধরে টেনে নিয়ে তার মাথায় গুলি করে জঙ্গিদের প্রধান।

সে সময়ের ৩১ বছর বয়সী ডা. মুরথি জানান, “এই ভয়ঙ্কর সময়ের পুরোটা জুড়েই তিনি শান্ত আর কর্মক্ষম ছিলেন। তিনিই সবার আগে হাইজ্যাকের ব্যাপারে সতর্ক করেছিলেন বিমান চালক এবং নির্বাহী কর্মকর্তাদের। এবং তার নির্দেশনা অনুযায়ী সবাই ককপিট থেকে বেরিয়ে যান যেন বিমানটি উড়তে না পারে। তিনি সত্যিকার অর্থেই একজন আন্তর্জাতিক নাগরিক ছিলেন এবং ভারতীয় ও মার্কিন নাগরিকদের মধ্যে বিভেদ করেননি।”

ডা. মুরথির স্ত্রী ডা. ভিনা মুরথিও বিমানে ছিলেন। তিনি তুলে ধরলেন হৃদয়বিদারক এক  তথ্য।

“সে সময় নিরজার বয়স ২৩ বছর ছিল এবং দুদিন পরই ছিল তার ২৪ তম জন্মদিন। তিনি তার বাবা-মাকে তার জন্মদিন উপলক্ষে ছোটখাটো একটি আয়োজন করতে বলেছিলেন। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে নিরজার পরিবারকে তার জন্মদিনের পর দিন বইতে হয়েছিল মেয়ের লাশবাহী কফিন।”

রূপালি পর্দায় নিরজা চরিত্রটি রূপদান করেছেন বলিউড তারকা সোনাম কাপুর। এছাড়াও অভিনয় করেছেন শাবানা আজমি এবং শেখর।

 

সোর্স বিডি নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম।

Advertisements

Leave a Reply

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

Enter your email address to follow this blog and receive notifications of new posts by email.

Join 270 other followers

%d bloggers like this: